ইন্দোনেশিয়া'র টুরিস্ট (স্টিকার) ভিসা
বাংলাদেশের পর্যটক'রা চাইলে নিজে নিজেই করতে পারেন ইন্দোনেশিয়া'র টুরিস্ট (স্টিকার) ভিসা
১ম ধাপঃ
★ ঢাকার গুলশান দুই (২) নাম্বারে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া'ন এ্যাম্বেসি'তে টুরিস্ট ভিসা জমা করতে এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর ডেট চেয়ে মেইল করুন।
★ ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া এ্যাম্বেসি'র মেইল এ্যাড্রেস
consular@indonesia-bd.org
★ আনুমানিক এক মাস সময় হাতে নিয়ে মেইল করবেন,
কারণ এ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট পেতে লম্বা সময় লাগতে পারে।
২য় ধাপঃ
★ এ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট পাওয়ার পর নিচে দেয়া লিংক থেকে ইন্দোনেশিয়া ভিসা আবেদন ফর্ম-টি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করুন।
https://kemlu.go.id/files/childmenu/additional_file/1736077913677a72598c5de_Form_Visa.pdf
★ ফর্ম-টি হাতে না লিখে, কম্পিউটার এর মাধ্যমে পূরণ করুন।
# প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ~
★ বিগত দশ (১০) বছরের মধ্যে ব্যাবহার করা পুরনো সকল পাসপোর্ট সহ বর্তমানে মিনিমাম ছয় (৬) মাসের মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট।
★ পাসপোর্ট এর ফটোকপি, হোটেল বুকিং এর ফটোকপি, বিমান টিকেট (লাইভ) বুকিং এর ফটোকপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর রঙিন ছবি, ট্রাভেল আইটিনারি, কাভার লেটার।
★ মনে রাখবেন হোটেল বুকিং, বিমান টিকেট এবং ট্রাভেল আইটিনারি'র মধ্যে যেন মিল থাকে।
★ ব্যাংক সলভেন্সি, ছয় (৬) মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট
(জনপ্রতি মিনিমাম তিন লক্ষ টাকা জমা থাকতে হবে)।
★ যে এ্যাকাউন্ট এর স্ট্যাটমেন্ট জমা দিবেন সেই এ্যাকাউন্ট এর একটি স্বাক্ষর বিহীন চেক এর অরিজিনাল পাতা।
★ ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।
★ চাকুরীজীবি'র ক্ষেত্রে এনওসি লেটার এর ফটোকপি, সেলারি সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।
★ স্বামী স্ত্রী একসাথে ভিসা নিতে চাইলে অবশ্যই স্বামী'র পাসপোর্টে স্ত্রী'র নাম এবং স্ত্রী'র পাসপোর্টে স্বামী'র নাম সঠিকভাবে লিখা থাকতে হবে। অন্যথায় নামের অমিলের জন্য এভিডেভিড এবং নাম না থাকার জন্য মেরিজ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।
★ মনে রাখবেন সকল এ্যাম্বেসি-তে জমা করার জন্য সমস্ত ডকুমেন্টস ইংরেজিতে হওয়া উচিৎ। তাই ভিন্ন ভাষার সকল ডকুমেন্টস সরকার অনুমোদিত অনুবাদকের দ্বারা অনুবাদ এবং উকিল দ্বারা নোটারি পাবলিক করে নিবেন।
৩য় ধাপঃ
★ আপনার এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর আগেই সমস্ত ডকুমেন্টস গুছিয়ে রাখা ভালো।
★ নির্ধারিত তারিখে সকাল (৯) নয়টা নাগাদ নিচে দেয়া ঠিকানা মোতাবেক ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসে চলে যান।
★ ভিসা জমা দেওয়ার সময় -
সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা (১০:০০ থেকে ০১:০০)
★ ইন্দোনেশিয়া এ্যাম্বেসি'র ঠিকানা ~
বাড়ী নং- ৫৩, প্লট নং- ১৪, রোড নং- ২৫, ঢাকা- ১২১২
★ ইন্দোনেশিয়া এ্যাম্বেসিতে প্রবেশ করতে আপনাকে উনাদের পোশাক কোড মানতে হবে। সহজ কথায় টি-শার্ট এবং স্যান্ডেল/চপ্পল অনুমোদিত নয়।
★ শার্ট/প্যান্ট, সু-জুতা পড়তে পারেন।
★ এ্যাম্বেসি'র ভিতরে প্রবেশ করে সিকিউরিটি অফিসার এর রুমে ফর্মালিটি পূরণ করুন। অতঃপর নির্ধারিত রুমে সিরিয়াল এর জন্য অপেক্ষা করুন।
★ দুটি কাউন্টারে ভিসা জন্য পাসপোর্ট + ডকুমেন্টস জমা নিয়ে থাকে।
★ সাধারণ কিছু প্রশ্ন করতে পারে। নির্ভয়ে জবাব দিন।
ইংরেজি না জানলে বাংলায় বলুন। উনারা বাংলা বুঝেন।
★ সব কিছু ঠিক থাকলে আপনাকে দ্বিতীয় ছবির মতো ব্যাংক এর জমা রশিদ দিয়ে দিবে।
★ জমা রশিদটিতে উল্লেখিত, হাঁটার দুরত্বে অবস্থিত ব্যাংকটিতে গিয়ে, ভিসা ফি দশ হাজার পাঁচ শত (১০,৫০০) টাকা জমা করে দেন।
★ এবার জমা রশিদ নিয়ে সেইম কাউন্টারে চলে যান। উনারা জমা রশিদ এর একটি কপি রেখে অন্য একটি কপি সহ তৃতীয় ছবির মতো পাসপোর্ট ডেলিভারির তারিখ উল্লেখিত একটি টুকেন দিয়ে দিবে।
৪র্থ ধাপঃ
★ টোকেন এ উল্লেখিত তারিখে অথবা তার পরে চলে যান ইন্দোনেশিয়া এ্যাম্বেসি-তে।
★ ইন্শাআল্লাহ্ প্রথম ছবির মতো তিন (৩) মাস মেয়াদি টুরিস্ট (স্টিকার) ভিসা পেয়ে যাবেন।
★ এখন তিন (৩) মাসের মধ্যে যেকোনো সময় টিকেট কেটে ঘুরে আসতে পারেন বালি দ্বীপ, বাটাম দ্বীপ এবং রাজধানী শহর জাকার্তা সহ হাজার হাজার অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপ নিয়ে গঠিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে।
এক সঙ্গে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ভ্রমণের পরিকল্পনা রাখতে পারেন, সেক্ষেত্রে দুই/তিন দেশের হিসেবে তুলনামূলক খরচ কম পরবে।
পরিশেষে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং পেইজটি ফলো করার অনুরোধ করছি